দেবী রক্ত বগলামুখির স্তম্ভন প্রক্রিয়াকরণ

দেবী রক্ত বগলামুখির স্তম্ভন প্রক্রিয়াকরণ

ভগবতী লহিত বগলা বা রক্ত বগলা


১.ভগবতী লহিত বগলা বা রক্ত বগলা-র বর্ণনা ?

যার গাত্র বর্ণ রক্ত তুল্য এবং তাঁর আকৃতি স্বরূপ স্বাস্ত্র মতে ( মুন্ড মালিনি তন্ত্রসার, সাধু সংকুলিন তন্ত্রসার, রাজহংসেস্বরি তন্ত্রসারে বিশেষ বর্ণনা রয়েছে ) দেবী চতুর্হস্ত, দেবীর এক হাতে অমৃত পাত্র, এক হাতে গদা, এক হাতে চিমিটা ( চিমটা ) এবং আরেক হাতে দেবী অভয় মুদ্রা বা বর দান করছেন। গাত্র বর্ন রক্ত, নিচে শবাসন মুদ্রায় ভৈরব অবস্থান করছেন। দেবীর মস্তকে একটি মহাস্বর্প বিস্তৃত। শ্রী ভগবত অনুসারে এই মহাস্বর্প হলেন এক বক্র মহারুদ্র ভৈরব।             


২. স্তম্ভন কি ? 

শত্রু দ্বারা হওয়া কোন উপদ্রব বা ক্ষতি আটকে দেওয়া কে বলে স্তম্ভন। উদাহরণ স্বরূপ,  কালোবিদ্যার দ্বারা যদি কেউ আপনার ক্ষতি করে সেটিকে আটকে দেওয়া। অথবা, যদি কোনো শত্রু আপনার বিরুদ্ধে মামলা করে, সেই মামলায় জয়লাভ করা বা সেই মামলায় তাকে হারিয়ে দেওয়াকে বলে স্তম্ভন। 


৩. রক্ত বগলা মুখীর প্রক্রিয়াকরণ ?

রক্ত বগল মুখীর প্রক্রিয়াকরণের জন্য আদর্শ দিন হল মঙ্গলবার, এবং যদি মঙ্গলবারের তিথি চতুর্থি যুক্ত হয়, তবে দেবীর কৃপা খুবই সহজ প্রাপ্তি হয়। এই প্রকিয়াকরণের জন্য রক্ত বগলামুখির একটি ফোটো রাখতে হবে। কিন্তু রক্ত বগলামুখির ফোটো পাওয়া সম্ভব নয় তাই পৃত বগলামুখির ফোটো থাকলেও হবে। ফোটোটি অর্থাৎ দেবীর মুখ দক্ষিণদিকে অভিসারিত হবে এবং দেবী উত্তর দিকে অধিস্থাপিত হবে। দেবীকে হলুদ রঙের আসনে অধিস্থাপিত করতে হবে। সাধকেও হলুদ রঙের বস্ত্র এবং হলুদ রঙের আসন ব্যবহার করতে হবে। সাধক উত্তর দিকে মুখ করে সাধনায় বসবে।  


courtesy : Google

পুজার উপকরণ : কাচা হলুদকে কেটে ১০৮ টুকরো করতে হবে। এই ১০৮ টি হলুদকে হলুদ সুত দিয়ে গেঁথে একটি মালা তৈরি করতে হবে এবং তাতে একটি করে গ্রন্থি থাকবে। দুধ দিতে সক্ষম যে গরু অর্থাৎ যে সদ্য প্রসব করেছে। সেই গরুর মুত্র মাটিতে পড়ার আগে সাধককে সংগ্রহ করতে হবে। এরপর সেই মুত্রের সঙ্গে কাচা দুধ এবং ঘি মেশাতে হবে। সেই মিশ্রনের মধ্যে কাচা হলুদের মালাটিকে সংস্করণ করতে হবে। সংস্কারের মন্ত্রটি হল 


“ ওং হ্লীং বগলামুখি সর্ব দুষ্টানাম বাচং মুখম্ পদম্ স্তম্ভয়,  
জিহ্বাং কিলোয় কিলোয় বুদ্ধি বিনাশায় হ্লীং ॐ স্বাহঃ”  

একটি মাটির সরার মধ্যে পূর্বে বর্ণিত উপকরণ ( গোমূত্র, ঘি, কাচা দুধ ) দিয়ে মালাটি ২৮ বার অভিমন্ত্রিত করে নিতে হবে। এরপর সাধক দেবীর সামনে বসে আচমন করে দেবীর চরনে ৫টি কিংবা ৮টি হলুদ ফুল, বেল পাতার উপর গুড় হলুদ লাগিয়ে দেবীর শ্রীচরনে অর্পন করতে হবে 

“ নমঃ হ্লীং বগলা মুখি দেব্বেও নমঃ ” 

মন্ত্রটি বলতে হবে। ১০৮ টুকরের কাচা হলুদের মালাটি ডান হাতে রেখে বা হাত দিয়ে চাপা দিয়ে বলতে হবে, 

“ অস্য শ্রিমত ভগবতি বগলামুখি মন্ত্রশ্ব নারদ 
ঋষি গায়ত্রি ছন্দ শ্রী ভগবতী বগলামুখি 
দেবতা হ্লীং বিজং স্বহা শক্তি ক্লিং কিলোকং 
মম সর্ব শত্রু নং ( এখানে সাধকের শত্রুদের নাম উল্লেখ করতে হবে ) 
স্তম্ভনার্থে শ্রী বগলামুখি জপেচ বিনিয়।” 

এই মন্ত্রটি ৮ বার জপ করতে হবে। এরপরে সাধককে ১০৮ টি টুকরের মালাটিকে নিয়ে ১০৮ বার “হ্লীং” মন্ত্র জপ করতে হবে। এরপর আবারও বগলামুখীর মন্ত্রের জপ করতে হবে।  

“ ॐ হ্লীং বগলামুখি
( সর্ব দ্রুষ্টায়নং-এর পরিবর্তে শত্রুর নাম থাকবে )
বাচং মুখং পদং স্তম্ভয়,
জিহ্বাং কিলোয় কিলোয় বুদ্ধি বিনাশায় লিং ॐ স্বাহঃ ”       

এই মন্ত্রটি ১০০৮ বার জপ করে দেবীর গলায় মালাটি দেবীর গলায় দিয়ে দিতে হবে অর্থাৎ ফোটোতে দিয়ে দিতে হবে। এরপর সাধককে হাতে গুড় হলুদ মেশান জল নিয়ে, 

“ॐ গুজ্জাদি গুজ্জ গোপিত্রং গৃহানৎ মত কৃতং জপং
সিদ্ধিং ভবতু মে দেবী ততপ্রসাদত শ্রী বগলামুখি ”     

এই মন্ত্র জপ করে দেবীর শ্রী চরনে হলুদ মেশান জল সমর্পন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াকরনের সময় সাধকের কপালে হলুদ তিলক আবশ্যক। যদি সাধক বিবাহিত হয়, তবে যে তিনদিন এই পুজোর প্রক্রিয়াকরন চলবে সেই তিনদিন সাধককে ব্রহ্মচর্য্য পালন করতে হবে। এরপাশাপাশি সাধককে প্রক্রিয়াকরণের দিনগুলিতে সাত্যিক আহার গ্রহণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়াকরন সম্পন্ন করলে দেবী রক্ত বগলামুখিকে তুষ্ট করা যাবে এবং সাধকের সমস্যার নিশ্চিত সমাধান মিলবে।              

উল্লেখ্য, “হ্লীং” ব্যাতিত “লিং” উচ্চারন করা যাবে না। কারন দেবী রক্ত বগলামুখীর প্রক্রিয়াকরনের সময় যদি “লিং” মন্ত্রের জপ করা হয় বা উচ্চারন করেয়া হয়। তবে, কিন্তু দেবী মহাড্রামুরি-র আদত্ববিজকে আহ্ববান করা হয়।                                      

প্রসঙ্গত, সংস্কৃতে সব অক্ষরের ভিন্ন ভিন্ন উচ্চারন এবং মানে বর্নিত আছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে “হ্লীং” শব্দটিকে উচ্চারনের সুবিধার্থে “হলিং” ও উচ্চারন করা হয়।     


Leave a Reply

Close Menu